বৃহন্নলাকে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেপ্তার 3
দি নিউজ লায়ন; এক বৃহন্নলাকে তুলে এনে আটকে রেখে চরম শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠল আর এক বৃহন্নলা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে। অভিযোগ, ওই বৃহন্নলার কপাল, মুখে জ্বলন্ত কয়লা দিয়ে ছ্যাকা দেওয়া হয়। অকথ্য নির্যাতন করা হয়। ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। বারুইপুর থানার পুলিশ বিশেষ টিম করে ঘটনায় মূল অভিযুক্ত দক্ষিণ ২৪ পরগনার বৃহন্নলা গোষ্ঠীর প্রধান সহ তিনজন কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আহত বৃহন্নলাকে কলকাতার এস এস কে এম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বারুইপুর পুলিস জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইন্দ্রজিত বসু বলেন, ওই বৃহন্নলাকে নির্যাতনের ঘটনার খবর আসতেই পুলিশ মল্লিকপুর এলাকা থেকে অভিযুক্ত রত্না চৌধুরী সহ আরও দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে। মূলত দুই গোষ্ঠীর মধ্যে ব্যবসায়িক কারনে এলাকা দখলকে ঘিরেই এই গণ্ডগোল।
পুলিশ সূত্রে খবর, ওই বৃহন্নলা ঢাকুরিয়া এলাকার বাসিন্দা। সোশ্যাল মিডিয়ায় তার উপর শারীরিক নির্যাতনের খবর প্রকাশ হতেই বারুইপুর থানায় অভিযোগ করা হয়। জানা যায় অভিযুক্ত রত্না চৌধুরী সহ তার লোকজন তাকে যাদবপুরের তালবাজারের কাছ থেকে তুলে এনে তার মল্লিকপুরের বাড়িতে তিন-চারদিন ধরে আটকে রেখে ওই বৃহন্নলাকে চরম শারীরিক নির্যাতন করে। এমনকী, সেই নির্যাতনের ছবিও মোবাইলে তোলা হয়। কোনও ক্রমে ওই বৃহন্নলা তাদের কাছ থেকে ছাড়া পায়। এই খবরে তোলপাড় পড়ে যায় আহত বৃহন্নলা গোষ্ঠীর মধ্যে। এমনকী, রাজ্যের নারী ও শিশুকল্যান মন্ত্রী শশী পাঁজার কাছেও খবর চলে যায়।
এরপরেই বারুইপুর পুলিশ জেলার সুপার তদন্তের নির্দেশ দেয় বারুইপুর থানার পুলিশকে। তারপরে বারুইপুর থানার আই সি, মহিলা থানার আই সি সহ এক একজন এস আই কে নিয়ে বিশেষ টিম গড়া হয় তদন্তের কাজে। মল্লিকপুরে অভিযুক্তের বাড়ি থেকেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। শুক্রবার সকালে থানায় ভিড় জমান দুই গোষ্ঠীর লোকজনই। তাদের মধ্যে বচসা থেকে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে দুই গোষ্ঠী। পুলিশ পরে উত্তেজনাময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করে। এদিকে অভিযুক্ত রত্না চৌধুরী বলেন, ওই বৃহন্নলা ঘণ্টা আমাদের এলাকায় এসে চুরির কাজ করছিল। সেই কারনেই তাকে ধরে মারধোর করা হয়।

Post a Comment